Education GuidelineLifeStyle

জেন্ডার কী ? জেন্ডার সংবেদনশীলতা কতটা গুরুত্বপূর্ন ? জেন্ডার সংবেদনশীলতা কিভাবে শেখা যায় ?

 

জেন্ডার

হ্যালো ফ্রেন্ড আজ আমি আপনাদের সাথে সমাজের একটি পিছিয়ে থাকা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো । এই আলোচনার মাধ্যমে জনগনের মধ্যে একটুও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে ভালো লাগবে । আজকের আলোচনার বিষয়টি হলো জেন্ডার ভিত্তিক তো আর কথা না বাড়িয়ে চলে যাবো মূল আলোচনায় ।

জেন্ডার কি এবং কাকে বলে ?

নারী ও পুরুষ মিলেই হলো মানবজাতি । সভ্যতার শুরু থেকেই নারী পুরুষ যার যার অবস্থান থেকে সমাজব্যবস্থার বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখছে । কিন্তু সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে নারী ও পুরুষের অবস্থান ও ভূমিকার পরিবর্তন হতে থাকে । নারী ও পুরুষের পরস্পরের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। তাদের বিভিন্ন সামাজিক ও আচারনিক পরিবর্তন দেখা দেয়। নারী ও পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির এই সম্পর্ককে জেন্ডার বলে ।

জেন্ডার মানুষের জৈবিক পরিচয়কে নির্দেশ করেনা বরং নারী ও পুরুষের সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গিকে নির্দেশ করে । অর্থাৎ জেন্ডার হচ্ছে নারী পুরুষের কাঙ্খিত আচরন যা পরিবার , সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে বিকশিত হয়।

জেন্ডার সংবেদনশীল হওয়ার গগুরুত্ব

জেন্ডার সংবেদনশীল হওয়ার মাধ্যমে নারী কিংবা পুরুষ বা বিশেষ লিঙ্গের প্রতি সমাজে বিদ্যমান ও প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য কমে আসবে । নারী ও পুরুষের সামাজিক অবস্থানের সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলেই এ ধরনের বৈষম্যের বিলোপ ঘটবে ।

জেন্ডার কি
জেন্ডার কি

জেন্ডার সংবেদনশীল যদি সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত হয় , তাহলে নারী ও পুরুষের সামাজিক ও ব্যাক্তিগত নিরাপত্ত নিশ্চত হবে । পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধাবোধ তাদের মধ্যে এই ধারনার জন্ম দেবে যে প্রত্যেক ব্যাক্তির নিজস্ব স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে ।

আরো পড়ুনঃ Free Sms Sender BD যেকোনো নাম্বারে একদম ফ্রিতে ।

সমাজে প্রত্যেক ব্যাক্তি যদি জেন্ডার সংবেদনশীল হয় তাহলে সমাজে নারী পুরুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে । সমাজে কেউ কাউকে তখন হীন করার চেষ্টা করবেনা এবং বিশেষ কোন লিংগের প্রতি কারো বিরাগ থাকবেনা । জেন্ডার সংবেদনশীলতা মানুষের মনভাবের পরিবর্তন ঘটায় । প্রত্যেকের অবস্থান ও মর্যাদা সম্পর্কে সতর্ক করে । এর ফলে মানুষের আচরনের পরিবর্তন ঘটে ।

জেন্ডার সংবেদনশীলতা মাধ্যমে নারী ও পুরুষ উভয়ই সমানভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। পরিবারের ক্ষেত্রে জেন্ডার সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন , এতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক তৈরি হবে । পারিবারিক বন্ধন সুদূঢ় হবে যা পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে ।

জেন্ডার সংবেদনশীল হওয়ার উপায়

নারী পুরুষ প্রত্যেকের উচিত আগে নিজের অবস্থান , মর্যাদা , ক্ষমতা , কর্মদক্ষতা সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল হওয়া । অন্যের অবস্থান , মর্যাদা , ক্ষমতা ও কর্মদক্ষতাকে বিবেচনা করলে সমলিঙ্গ বা বিপরিত লিংগের প্রতি কোন অশ্রদ্ধাজনক মনোভাব তৈরি হবেনা । নারী পুরুষ প্রত্যেকে পরষ্পরের প্রতি যদি কোন নেতিবাচক ধারনা বা মনোভাব পোষন করে তাহলে জেন্ডার সংবেদনশীল হওয়া সম্ভব নয়।

আরো পড়ুনঃ Newspaper Theme Free Activate কোনো টাকা লাগবে না

পরিবারই হলো প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । আর পরিবার থেকেই শুরু হয় প্রথম জেন্ডার বৈষম্য । তাই পরিবারকে সবার আগ জেন্ডার সংবেদনশীল হতে হবে । যদি পরিবার জেন্ডার সংবেদনশীল হয় তবে পরিবারের সবাই জেন্ডার সংবেদনশীল হয়ে গড়ে উঠবে ।

ক্যারিয়ার গঠনে জেন্ডার সংবেদনশীলতার ভূমিকা

জেন্ডার সংবেদনশীলতা জীবনের সকল ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করবে । আমাদের দেশের কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি । কর্মক্ষেত্রে নারী পুরুষ সমান ভাবে কাজ করবে , সমান সুভিদা ভোগ করবে এটা নিয়ম হলেও বাস্তবতা ভিন্ন । কর্মক্ষেত্র নারী সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হলে নারী কর্মী নিয়োগ , কর্মবন্টন , প্রশিক্ষন , উপযুক্ত পরিবেশ , দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রদান , সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রকিয়ায় অংশগ্রহন ইত্যাদি দরকার । কর্মী মূল্যায়নের ক্ষেত্রে লিঙ্গকে প্রধান্য না দিয়ে মেধা , শ্রম ও দক্ষতাকে প্রধান্য দিতে হবে । এরকম কিছু হলেই সবাই নিজ নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করতে পারবে ।

আমাদের আরেকটি ব্লগ http://Bloggerr.info চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ।

ফেসবুকে আমিঃ Md Nazmul Islam

তো বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই দেখা হবে অন্য কোন পর্বে । ভালো থাকবেন এবং আমাদের সাথেই থাকাবেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker